রাশিয়া কি পারবে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে?

 

অজয় রায়, বাংলা hunt : আর কয়েক ঘণ্টা বাদে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ। ইতিমধ্যে বিশ্বসেরার লড়াইকে কেন্দ্র করে ফুটবল প্রেমী মানুষদের মনে চরছে উত্তেজনার পারদ। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হতে চলেছে রাশিয়া। স্বাভাবিক ভাবেই পুতিনের দেশের মানুষের মনে এই ম্যাচ ঘিরে তীব্র কৌতুহল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, গোটা পৃথিবীর মানুষের চোখ থাকবে টিভির পর্দায়, কিন্তু কতটা তৈরি রাশিয়া? পারবে সৌদি আরব কে হারিয়ে দিতে? নাকি পুতিনের দেশের মানুষদের স্তব্ধ করে দিয়ে উল্লাসে মেতে উঠবে সৌদি আরব?

 

প্রথমবারের মতো রাশিয়াতে বসছে বিশ্বকাপের আসর। এটা তাদের চার নম্বর বিশ্বকাপ। ২০১৪ এর ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেছিল তারা। ২০১৬ এর ইউরো কাপে মাত্র এক পয়েন্ট পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করতে মরিয়া চেরিসভ এর ছেলেরা উল্টো দিকে সৌদি আরব ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপে শেষ ষোলো তে শেষ করেছিল। এবারও তাদের থেকে একটা ভালো প্যারফরম্যান্স এর আশা করা যেতেই পারে। কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার উপরে শেষ করে তারা রাশিয়ার ছাড়পত্র পেয়েছিল। প্রসঙ্গত, এবার ইংল্যান্ড ছাড়া তারাই একমাত্র দল যাদের প্রতিটি প্লেয়ার ঘরোয়া লিগে খেলে যদিও গত মাসে তাদের তারকা ফুটবলার আল মুয়ালাদ লা লিগার ক্লাব লেভান্তে তে সই করেছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোট পেয়ে রাশিয়ার দল থেকে ছিটকে গেছে কোকোরিন। দলের প্রথম সারির স্টাইকার এর ছিটকে যাওয়ায় খানিকটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে রাশিয়ান শিবিরে। এখন তাদের ভরসা উঠতি প্রতিভা জাগোয়েভ। সম্প্রতি কালে দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে তাকে।এছাড়াও ডিফেন্সে অধিক নিরাপত্তা দিতে চলেছেন চেলসির প্রাক্তনী ঝিরকভ। কেরিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছে যাওয়া এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এর উপর এবার রাশিয়ার রক্ষন এর দায়িত্ব থাকছে। এছাড়াও তিন কাটির তলায় আকিনফেব এবছর ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে তার দেশের হয়ে। লেভ ইয়াসিন এর উত্তরসূরী এই গোলকিপার দেশের হয়ে খেলেছেন শতাধিক ম্যাচ। তার বিশ্বস্ত হাত যে অনেক ফারাক গড়ে দিতে চলেছে এই বিশ্বকাপে তা বলাই বাহুল্য।

একাধিক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে এবারের সৌদি আরবের দলে। আল শেরির মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার দলকে বাড়তি নিরাপত্তা দেবে। ২০০৯ থেকে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে এই ফুটবলার। এছাড়াও আছে আল আবেদ, এবারে নিজের দেশকে বিশ্বকাপের মুল পর্বে সূযোগ করে দিতে যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে পাঁচটা গোল আছে তার। তবে নজর থাকবে গত মাসে লেভান্তে তে যোগ দেওয়া ফুটবলার এশিয়ার উঠতি প্রতিভার অন্যতম আল মুয়ালাদ এর দিকে। এই তরুন ফরওয়ার্ড ২০১২ সালে প্রথমবার সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পায়। দেশের হয়ে খেলেছেন ৪৪ টি ম্যাচ তাতে গোল করেছেন ১০ টি। এইবছর সৌদি আরব কে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে তার পা থেকে আশা গোল, সুতরাং সুয়ারেজ, সালাহ এর পাশাপাশি নজর রাখতেই হচ্ছ এই উঠতি প্রতিভার দিকে।

তবে সব দিক থেকে বিচার করে দেখলে এই গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে উরুগুয়ে এবং ইজিপ্ট। যদিও সালাহ না খেললে ফ্যারাওদের দেশের ফুটবলাররা মানসিক ভাবে খানিকটা পিছিয়ে পড়বে। তখন সৌদি আরব এগিয়ে থাকবে পরের রাউন্ডের যাওয়ার দৌড়ে। বিপক্ষের দল গুলির বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে কি করে রাশিয়া এখন সেইটাই দেখার।