হুগলীর মগরায় ট্রেনের তলায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী যুগল

 

সুজিত গৌড় : হুগলী: অসম প্রেম,পরিবারের বাধা,হুগলীর মগড়া তালান্ডু স্টেশনের মাঝে ট্রেনের তলায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী যুগল।মগড়ার সুকান্ত পল্লীর যুবক যুগল দাসের(২২) সঙ্গে বছর দুয়েক ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পাড়ারই রীতিকা রায়(২৬) এর।আর পাঁচটা যুবক যুবতীর মত এই প্রেম ছিল না।রীতিকা বিবাহিত তার পাঁচ বছরের ছেলে রয়েছে।স্বামী গজঘন্টা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক নিখিল রায়।স্বামীর সঙ্গে সংসারে মন বসে না তার। পাড়ার যুবক যুগলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে।

জানাজানি হতেই তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়।দুই পরিবারে অশান্তি চরমে ওঠে।কিছুদিন মেলামেশা বন্ধ করে দুজনে।নিখিল তার স্ত্রীকে যুগলের সঙ্গে মিশতে বারন করে দেন।প্রকাশ্যে মেলামেশা না করলেও।গোপনে, ফোনে দুজনের মধ্যে প্রেমালাপ চলতে থাকে। গভীর হয় প্রেম।
যুগল দুই ভাই এর মধ্যে ছোট।দাদা গোবিন্দ ফুটবল খেলে রেলে চাকরী পেয়েছে।সে নিজে বাগাটী কলেজে তৃতীয় বর্ষে পড়ার পাশাপাশি সিঙ্গুর আই টি আই তেও পড়ছিল।তার থেকে বয়সে বড় বিবাহিত কোনো মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নেয় নি তার পরিবার,তাই বাধা ছিল এই সম্পর্কে।অন্যদিকে রীতিকার স্বামী ইদানিং স্ত্রীর আচরনে সন্দিহান ছিলেন।স্ত্রীর অন্য সম্পর্ক জানার পর তাকে যুগল থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন।যদিও সেই কথায় কান দেয়নি রীতিকা।স্কুটার নিয়ে মাঝে মধ্যেই বেরিয়ে পরত দুজনে।গতকাল সন্ধায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে দেখতে পাননি নিখিল বাবু।

ফোন করলে স্ত্রী জানায় বাজারে গিয়েছে একটু পরে ফিরবে।রাতে আর বাড়ি ফেরেনি রীতিকা।নিখোঁজ ছিল যুগলও।আজ ভোরে দুজনের মৃতদেহ পরে থাকতে দেখা যায় রেল লাইনে।ব্যান্ডেল জিআরপি দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়।একই পাড়ায় দুজনের মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে প্রতিবেশিদের।কেউ বলছেন বৌ টাই খারাপ ছিল,কেউ বলছে ছেলেটার জন্যই এমন হল।দুজনের প্রেম গভীর ছিল,এক সাথে আত্মহত্যা থেকেই বোঝা যায়।তবে এধরনের প্রেমের বোধ হয় এমনই পরিনতি হয়।