এক হারানো মানুষের, না হারানো আবেগ নিয়ে লেখা জীবন দলিল

 

বাংলা hunt ডেস্ক : এ এক হারানো মানুষের না হারানো কথা নিয়ে লেখা উপন্যাস। উপন্যাসের পাতায় পাতায় আছে আবেগ, আছে একটা হারিয়ে যাওয়া মানুষের না হারানো স্মৃতিগুলো। এগুলো সব এক মুঠো ভাবে একত্রিত করেছেন লেখক বুধাদিত্য গুপ্ত। হারিয়ে যাওয়া মানুষটি লেখক এর অন্তরঙ্গ বন্ধু তিনু, তৃণাঞ্জন দত্ত।

তিনুর আবেগ, ভালোবাসা, জীবনের আত্মকথা লেখক তার ‘ফিরে দেখি পশ্চাতে আধো অন্ধকারে’ উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। গল্পের শুরুতে ‘কৈফিয়াত’ অংশে লেখক বলেছেন,’তিনু ছিল আমার খুব অন্তরঙ্গ বন্ধুদের মধ্যে একজন। কলেজে পড়তে গিয়ে আলাপ এবং ক্রমশ বন্ধুত্ব। অর্থাভাবে ও পড়তে পারেনি। কলেজ ছেড়েছিল। তবুও যোগাযোগটা ছিল আমাদের। সেটা লেখালেখির সূত্রে। তিনুর লেখার হাত ছিল ভারি চমৎকার। ওর বেশ কিছু লেখা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও, প্রতিষ্ঠিত বড় পত্র-পত্রিকাগুলো ওকে বিমুখ করেছিল। বড় পত্রিকার দাক্ষিণ্য পায়নি বলে ওর মনে যুগপৎ এবং দুঃখ দুই ছিল। যা ওকে একসময় আত্মঘাতী করে তোলে। ছেড়ে দেয় সাহিত্য চর্চা। তারপর হঠাৎই আত্মগোপন করে একদিন। এই নির্মম আত্মসর্বস্ব পৃথিবীর বিপুল জনারণ্যে কোথায় যেন মিশে যায়। আমি ওকে খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। যে হারিয়ে যাবো বলে হারিয়ে যায় তাকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

জয়াকে ভালোবাসতো তিনু। ওকে নিয়ে কিছু একটা ভালো লেখার সুপ্ত বাসনা ছিল ওর। জয়ার ইচ্ছেও ছিল তাই। ও চেয়েছিল, তিনুর নানা কবিতায়, লেখায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওর ছায়াঘন টুকরো টুকরো সত্ত্বাগুলি কোনো এক লেখায় পরিপূর্ণ হবে। আলোকিত হবে।

আমাকে অনেকবার প্লট শুনিয়েছিল। কিন্তু কোনোবারই মনস্থির করে উঠতে পারেনি। কি লিখবে, ঠিক কি লেখা হবে, কিভাবে এগোবে শেষ পর্যন্ত এই চিঠি। যদিও এই চিঠি ছিল দীর্ঘদিন বন্দী। ঠিকানা জানা না থাকায় ও পোস্ট করেনি। ওর অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে দেরাজ হাতিয়ে এটা পেয়েছিলাম। এই চিঠিকে পান্ডুলিপি করার জন্য যা যা দরকার ছিল সাধ্যমত তা করার চেষ্টা করেছি। বেশ কিছু ঘটনাকে নিজের স্মৃতি থেকে তুলে এনেছি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফুল একত্রিত করে গেঁথেছি মালা। জানিনা বন্ধুকৃত্য কতটুকুই কি হয়েছে।’

আরও পড়ুন   কেরিয়ারে শুরুর দিন গুলির গল্প অনিল কাপুর

এবার আসা যাক মূল গল্পে, আসলে গল্প নয় জীবন দলিলে। চিঠিটি লেখা হয় ১৬-৫-১৯৭৪ এ সোদপুরে। প্রিয়তমা জয়াকে উদ্দেশ্য করে তার তিনুদার চিঠি। শুরুতেই তিনি বলেন,’ আজ তোমাকে কেন যে এই চিঠি লিখছি তা আমি জানিনা। বিশ্বাস কর লিখতে গিয়ে বার বার কলম থেমে গিয়েছে। একবার লিখছি, ছিড়ে ফেলছি। আবার লিখছি, ছিড়ে ফেলছি। ঘরে কাগজের গোলা। আমার পরিচয় তো কোনো একটা গণ্ডিতে আটকে নেই। তবে এত লোক থাকতে তোমাকে কেন? কেন এসব কথা তোমাকেই লিখতে চাই? সদুত্তর মেলেনি। এ লেখা হয়তো পিছু ফিরে দেখা। জীবনের কোনো একটা জায়গায় পৌঁছে হিসেব-নিকেশ, কি পেলাম আর কি পেলাম না। আমরা প্রত্যেকেই কোথাও না কোথাও এক সময় পৌছে যাই। সেটা সাফল্যের শিখরে হোক কিংবা ব্যর্থতার অতলে। কিন্তু আজ আমরা যেখান থেকে উঠে এসেছি, সেখানে দাঁড়িয়ে তোমার এমন সফল উত্তরণের কথা স্বপ্নেও কি তুমি ভেবেছিলে? কোনদিন সাত সমুদ্র তেরো নদী আর ধু ধু তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে রূপকথার রাজত্বে পৌঁছানো তো রীতিমতো এক গল্প! আমেরিকা আমাদের কাছে রূপকথার রাজত্ব বৈকি। তাই এই চিঠি শুধু আমার জীবনের হিসেব-নিকেশ নয়, তোমারও।’

এভাবেই ২৩৭ পাতার উপন্যাসটিতে তিনু তার জীবনের ওঠানামা, বিভিন্ন সুখের মুহূর্ত, জয়াকে কাছে না পাওয়ার মুহূর্ত, নিজের জীবনে জয়ার প্রয়োজনীয়তার মুহূর্তগুলি ব্যক্ত করে গেছেন। উপন্যাসের শেষে লেখক বুধাদিত্য গুপ্ত তার বন্ধুকে কিন্তু খুঁজতে যান নি। তিনি জানিয়েছেন, ‘বিপুল এই জনারণ্যে স্বেচ্ছানির্বাসনে যে আছে দীর্ঘদিন, তাকে পরিচয়ের গন্ডিতে টেনে আনতে মন চাইলো না। বঞ্চিত অভিমানাহত মানুষটার আড়াল ভেঙে নাইবা তাকে বিব্রত করলাম। সৃষ্টি যখন স্রষ্টাকে ছাপিয়ে যায় তখন স্রষ্টার পরিচয় গৌণ হয়ে পড়ে। আমার বিশ্বাস তিনুর এই উপন্যাস তিনুর পরিচয়ের ধারক ও বাহক হয়ে উঠবে।’

সুতরাং, জয়াকে লেখা তিনুর জীবনের বাকি কথাগুলো জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়ে দেখতে হবে।সেক্ষেত্রে জেনে নিন তার প্রাপ্তিস্থল।

আরও পড়ুন   দুই পা ছাড়াই পর্বত শিখরে মার্কিন যুবতী

প্রাপ্তিস্থল:
যশোমতী পাবলিকেশন্স।
যোগাযোগ : ৮৯১০৫০৯৮৮৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


  • Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    error: