ভরা বৈশাখে এখানে হয় শিবের গাজন, মেতে ওঠে গোটা জেলা-জানুন কোথায়

 

ইন্দ্রানী সেন,বাঁকুড়া: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। তার মধ্যেই অন্যতম প্রধান উৎসব হলো গাজন উৎসব। রাঢ় বাংলার বেশীরভাগ জায়গার মতো বাঁকুড়া জেলা জুড়েও এই গাজন উৎসব সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তিতেই অনুষ্ঠিত হয়। বেশ কিছু সূত্র থেকে জানা যায় হিন্দু, বৌদ্ধ, পৌরাণিক, লৌকিক ইত্যাদি নানাবিধ সংস্কার আর বিশ্বাসের উপাদানের সংমিশ্রণেই গড়ে উঠছে গাজনের ঐতিহ্য, কিন্তু গাজনের লৌকিক চরিত্র সব জায়গাতেই একই থেকেছে।  গাজনের সঙ্গে লৌকিক শিবের সম্পর্কও সেই একইরকম আছে। তাই কিছু কিছু অঞ্চলে চৈত্রের গাজন মানেই শিবের গাজন। অন্যত্র যদিও অন্য সময় ধর্মরাজের গাজনও হয়ে থাকে।

বিশেষ কোন উৎসব  ও পুজোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন থাকে। নির্দিষ্ট দিন আর নির্দিষ্ট তিথি মেনেই অনুষ্ঠিত হয় সেই বিশেষ উৎসব গুলি। তেমনই সপ্তাহ ব্যাপী বুনো শিবের গাজন উৎসব অনুষ্ঠিত হল বাঁকুড়ার ইন্দাসের শাশপুর গ্রামে। 25শে বৈশাখ সন্ধ্যায় রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তী পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। 26শে বৈশাখ আনুষ্ঠানিক ভাবে বুনো শিবের গাজনের উদ্বোধন করেন জয়রামবাটী মাতৃ মন্দিরের মহারাজ স্বামী নির্লেপানন্দ মহারাজ। এদিন গাজন কমিটির পক্ষ থেকে এলাকার দুঃস্থ মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও সপ্তাহবাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে এবারের মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল সরকারী জনহিতকর প্রকল্প গুলি যেমন কন্যাশ্রী, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ আলোর মাধ্যমে জন সাধারণের কাছে তুলে ধরা। গাজন উৎসবের দিন গুলিতে উৎসাহী জনতার ঢল নেমেছিল।

এই গাজন নিয়ে এলাকায় বেশ কিছু  স্থানীয় লোকশ্রুতি থাকলেও কবে কি ভাবে এই গাজনের শুরু হয় তার নির্দিষ্ট কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। তবে শাশপুর গ্রামের প্রবীন নাগরিক সমাজ এর কথায় এটাই উঠে এলো “আমরা ছোট থেকেই এই গাজন দেখে আসছি, আমাদের বাপ ঠাকুর্দার আমল থেকেই ”  শাশপুর বুনো শিবের গাজন উৎসব কমিটির সদস্য কৌশিক সরকার বলেন, এই গাজন কতদিনের প্রাচীন তা সঠিক বলতে পারবো না,  দু’শো বছরের বেশী প্রাচীন বলে তিনি জানিয়েছেন ।