“পিংক ক্যাব” গাড়ি চালিয়ে স্বনির্ভর হতে চায় মহিলারা

 

মহিষাদল( পূর্ব মেদিনীপুর)ঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হল ” পিংক ক্যাব”। আর এই পিংক ক্যাব প্রকল্পের মাধ্যমে গাড়ি চালিয়ে স্বনির্ভর হতে চায় মহিষাদলের ঝর্না প্রামানিক। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ” পিংক ক্যাব” প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছিল। সফল মহিলাদের ভর্তুকি যুক্ত নতুন একটি গাড়ি দেওয়া হয়। সম্প্রতি গতমাসে জেলা সফরে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাজকুলের সাভা থেকে কয়েকজন মহিলার হাতে ” পিংক ক্যাব” প্রকল্পের গাড়ি চাবি তুলে দেন। জেলায় প্রথম পর্যায় মোট ১৬ জন মহিলার হাতে “পিংক ক্যাব” প্রকল্পের গাড়ি প্রদান করা হচ্ছে। তার মধ্যে মহিষাদল ব্লকে একমাত্র ঝর্না প্রামানিক সেই পরিষেবা পায়েছেন।

জেলা শাসকের দপ্তর থেকে ঝার্নাদেবির হাতে গাড়ির চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। নতুন গাড়ি হাতে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার মহিষাদল রাজ বাড়ির গোপাল জিউ এর মন্দির পুজো দিয়ে পথচলা শুরু করেন ঝর্নাদেবি। মহিষাদল ব্লকের নাটশাল-২ অঞ্চলের রাজচকের বাসিন্দা ঝর্না প্রামানিকের। স্বামী গৌতম প্রামানিক। ঝর্নাদেবির দুই মেয়ে, বড় মেয়ে শিখা ও স্নিগ্ধা । দুজনেই পড়াশোনা করছে। স্বামী গাড়ি চালানোর কাজ করে৷ স্বামীর অনুপ্রেরণায় ঝর্নাদেবি পিংক ক্যাব প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে সরকারিভাবে তার হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া হয়। গাড়ি পেয়ে বেজায় খুশি ঝর্নাদেবি। তিনি জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মহিলাদের কথা ভেবে নানা প্রকল্প চালুকে স্বনির্ভর করার চেস্টা করে চলেছেন। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পরিবারের আয়ের উৎস হিসাবে স্বামী গাড়ি চালিয়ে উপার্জিত অর্থ। আর সেই অর্থে ঠিকভাবে সংসার চালানো যাচ্ছে না। তাই নিজেও চালকের আসনে বসে যাত্রীদের সুন্দর পরিষেবা দেওয়ার জন্য পিংক ক্যাব প্রকল্পে নাম লিখিয়ে গাড়ি চালানোর কাজ শুরু করেছি৷

আরও পড়ুন   ভোর-রাতে উত্তরপ্রদেশে ভেঙে পড়ল উড়ালপুল, জখম ৪

পিংক ক্যাব প্রকল্পের গাড়িটি কেবলমাত্র মহিলারাই তার চালক।গাড়িটিতে চারজন যাতায়াত করার সুযোগ পাবে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই পর্যটক থেকে সাধারন যাত্রীরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে পারবেন।

মধুমিতা দাস জানান, এতদিন চালকের আসনে পুরুষদের দেখেছি। কলকাতা শহরে মহিলাদের চালকের আসনে দেখা গেলেও জেলায় দেখা মিলত না। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তাও জেলায় চালু হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগল। মেয়েরা চালকেএ আসনে শুনে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

প্রতি মুহূর্তের সব রকম খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


  • error: