লোকসভা ভোটের আগে বাংলা থেকে মুসলিম সাংসদের কাছে কি দাবি তুলতে চলছে মুসলিম সংগঠন

 

বিশেষ প্রতিবেদক : সামনে ২০১৯ লোকসভা ভোট বাংলা থেকে ১৫ জন মুসলিমকে লোকসভার প্রার্থী করে জিতিয়ে সাংসদ করার দবী তুললেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও লেখক ফারুক আহমেদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস সহ সমস্ত রাজনৈতিক দল অনগ্রসর মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে সঠিক পদক্ষেপ নিক। বাংলার জনপ্রতিনিধি হিসেবে মুসলিমদের সর্বক্ষেত্রে সম সুযোগ দেওয়া হোক। রাজ্যের প্রশাসনের গগুরুত্বপূর্ণ পদে সমস্ত দফতরেই মুসলিম প্রতিনিধি না দিয়ে চরম বঞ্চিত করছে মমতা সরকার। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম অধ্যাপককে কেন উপাচার্য করা হল না? ব্যতিক্রম আলিয়া ছাড়া। ডিজি বা পুলিশ কমিশনারও করা হয়নি কেন? এবার ডিজি ও পুলিশ কমিশনার করা হোক মুসলিমদের মধ্য থেকে যোগ্য কোনও পুলিশ আধিকারিককে। বলছিলেন ফারুক আহমেদ।

“কলকাতা শহরে আরও ১৯ টি মুসলিম গার্লস ও বয়েজ হোস্টেল গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। সংখ্যালঘু দফতর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে রেখেছেন। চারিদিকে আওয়াজ উঠেছে সংখ্যালঘু কল্যাণে বাংলার মমতা সরকার চরম ভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়বে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে। এখনও সময় আছে মমতা সরকার সজাগ না হলে আগামীতে বামাদের মতো হাল হবে।
মেয়েটির নাম সিন্থিয়া সারমীন। বাড়ি নদিয়ার তেহট্ট মহকুমার থানারপাড়ায়। এবছর আলিয়া ইউনিভার্সিটিতে বাংলা এমএ-তে ভর্তি হয়েছেন। পার্কসার্কাসের গার্লস হোস্টেলের জন্য ওয়াকফ বোর্ডে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন আলিয়া ইউনিভার্সিটিতে হোস্টেল আছে তাই সেখানকার ছাত্রীদের হোস্টেল দেওয়া হবেনা। অবশেষে ছাত্রীটি আলিয়া ইউনিভার্সিটির হোস্টেলের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আলিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় এখনই হোস্টেল দেওয়া সম্ভব নয়। দু’ তিনটি পরীক্ষা হলে তবেই পাবে। অসহায় মেয়েটির বাবা হোস্টেল খুঁজছেন। প্রায় দুইশো কিমি দূর থেকে আসা যাওয়া করে প্রত্যন্ত গ্রামের সারমীনের পড়াশোনা করা খুব কঠিন। উচ্চ শিক্ষায় মুসলিম মেয়েদের সংখ্যা হাতে গোনা। কিছু সংখ্যক মেয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে যদি হোস্টেল না পায় তবে গরিব মেয়েরা পড়বে কী করে?
তাই শহরে কম পক্ষে ১৯ টি মুসলিম গার্লস ও বয়েজ হোস্টেলের জন্য জোরদার দাবি তুলছি। ওয়াকফ বোর্ড,সংখ্যালঘু দপ্তরকে এই নিয়ে ভাবতে হবে।
আর আলিয়া ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন,আপনাদের ছাত্রী সিন্থিয়া সারমীনকে একটি হোস্টেলের ব্যবস্থা করে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিন। আর যদি কোনও সিস্টেম এক্ষেত্রে সমস্যা হয় তবে সেই ‘সিস্টেম’ উঠিয়ে দিন। হোস্টেল না থাকলে হোস্টেল করুন।
বহু ছাত্র এখনও আলিয়ার হোস্টেল পায়নি।”
বলছিলেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মোক্তার হোসেন মন্ডল। “সংরক্ষিত আসনের বাইরে ডাব্লুবিসিএস গ্রূপ সিতে আড়াই শতাংশ ও চাকরি পায়নি মুসলিমরা!

সাচার কমিটির রিপোর্টের এগারো বছর পরেও চাকরি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের অবস্থা পাল্টায়নি। সংরক্ষিত আসনের বাইরে সাধারণ কোটায় তেমন চাকরি পায়নি মুসলিমরা, যা প্রমান করেছে রাজ্যের মুসলিমরা প্রতিযোগিতায় সাধারণ বিভাগে বেশি এগুতে পারেনি।

পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরিচালিত ডাব্লুবিসিএস গ্রূপ সি (২০১৬)-এর ফল প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার। তাতে দেখা গিয়েছে ৩২১ জন সফল পরীক্ষার্থীর মধ্যে মুসলিম হলেন ৪০ জন। এদের মধ্যে চার জন মহিলা। সব মিলিয়ে ১২.২ শতাংশ মুসলিম সফল হয়েছেন। এই হিসাব থেকে স্পষ্ট যদি ১০% সংরক্ষণ না থাকতো তবে চাকরির ক্ষেত্রে সেই দুই শতাংশের একটু বেশির মধ্যে আজও ঘোরাফেরা করতো। এতো বছর পর যা রাজ্যের জন্য লজ্জার। পিছিয়ে রাখা সম্প্রদায়টি যে এখনও পিছিয়ে তা এই ফলাফলে স্পষ্ট। উল্লেখ্য বিগত বাম সরকারের সময় মুসলিম ওবিসিদের জন্য ১০% সংরক্ষনের আইন পাশ হয়। মূলত মুসলিম ওবিসি এ সম্প্রদায়ের লোকদের জন্য এই সুযোগ ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ওবিসি বি তেও মুসলিমদের জায়গা দেওয়া হয়। কিন্তু চাকরি ক্ষেত্রে মুসলিম ওবিসি বি হাতে গোনা সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মুসলিমদের মধ্যে ৬ জন সাধারণ ক্যাটাগরিতে এবং ৩৪ জন ওবিসি তালিকাভুক্ত। ওবিসি তালিকাভুক্তদের মধ্যে ওবিসি-এ ৩৩ জন ও ওবিসি-বি ১ জন মুসলিম সফল হয়েছে। তবে, সমগ্র তালিকায় ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি মিলিয়ে মোট ৬৩ জন সফল হয়েছেন। ওবিসি -বি তালিকায় রয়েছেন মোট ৩০ জন। তার মধ্যে মাত্র একজন মুসলিম। আর ওবিসি-এ তালিকায় রয়েছেন ৩৩ জন মুসলিম। সাধারণ বিভাগ ও ওবিসি-বি তে মুসলিম সংখ্যা কম। হিসাব বলছে,ওবিসি সংরক্ষণ না থাকলে ৩২১ জনের মধ্যে
মাত্র ৬ জন মুসলিম চাকরি পেতো।

আসুন সংরক্ষণ নিয়ে কিছু তথ্য জেনে নিই ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে এসসি লোকের সংখ্যা- ২৩.৫১ শতাংশ এসটি সংখ্যা ৫.৮% সব মিলিয়ে হিন্দু মোট জনসংখ্যা ৭০.৫৪% মোট মুসলিম জনসংখ্যা ২৭.১%।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৭৬টি। এর মধ্যে ওবিসি এ ৮১ এবং ওবিসি বি ৯৫ টি। মুসলিমদের ১১৬ টি গোষ্ঠী ওবিসি ভুক্ত। এর মধ্যে মুসলিম ওবিসি এ তে আছে ৭৩ টি ও মুসলিম ওবিসি বি তে ৪৩টি গোষ্ঠী আছে।
১৭% ওবিসি সংরক্ষনের মধ্যে ১০% ওবিসি এ এবং ৭% ওবিসি বি বিভাগের জন্য। ওবিসি এ তে ৮১টি কমিউনিটি আছে তার মধ্যে মুসলিম ৭৩টি ও হিন্দু ৮ টি। ওবিসি বি তে ৯৫টি কমিউনিটি আছে তার মধ্যে মুসলিম ৪৩ টি ও হিন্দু ৫২ টি।
দেখা যাচ্ছে,পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরিচালিত ডাব্লুবিসিএস গ্রূপ সি পরীক্ষায় মুসলিম ওবিসি বি সম্প্রদায়ের ৪৩ টি গ্রূপের মধ্যে থেকে মাত্র একজন চাকরি পাবে! শুধু তাই নয়, চাকরির ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলাদের অবস্থা যে খুব খারাপ তা এই ফলাফল প্রমান করেছে।
এখন মহিলাদের বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। কেন মুসলিম মেয়েরা চাকরির ক্ষেত্রে এতো পিছনে তা খতিয়ে দেখতে হবে। আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে,রাজ্য সরকারের ব্যুরো অব ইকনমিক ও স্ট্যাটিস্টিকস প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মচারীদের বিষয়ে নানা খুঁটিনাটি তথ্যের উপর ভিত্তি করে ‘স্টাফ সেন্সাস’ তৈরি করে। এখান থেকে জানা যেত কত মুসলিম চাকরি পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই সেন্সাস আর প্রকাশিত হচ্ছে না। ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে দেখা যাবে, শুধু বিসিএস সি নয়, চাকরির প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবস্থা বদলায়নি। মুসলিম মহিলাদের অবস্থা আরও খারাপ। বামফ্রন্ট সরকারের সময়েও মহিলাদের চাকরি তেমন হয়নি। ২০০৭-০৮ সালে প্রতিচির সাবির আহমেদের করা তথ্য অধিকার আইন বলে জানা যায়, প্রায় পঁচিশ হাজার পুলিশ কর্মীর মধ্যে মুসলমান মাত্র ৯.১৩ শতাংশ। এর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ছিল মাত্র ২২। যদিও তখন সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়নি।
এবার মূল কথায় আসি, আমরা জানি একজন সংরক্ষিত প্রার্থী প্রথমে সাধারণ বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে। সেখানে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে সংরক্ষিত আসনে প্রতিযোগিতা করবে। সেইমতো প্যানেল হবে। সংরক্ষিত প্রার্থী যদি প্রতিবন্ধী হয় তবে সে প্রথমে সাধারণ, তারপর গোষ্ঠীগত সংরক্ষিত আসন, তারপর প্রতিবন্ধী আসনে প্রতিযোগিতা করবে। একজন সংরক্ষিত আসনের মহিলা প্রথমে সাধারণ বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে, সেখানে না পারলে সাধারণ মহিলা আসনে, সেখানেও না পারলে সংরক্ষিত বিভাগে এবং শেষে সংরক্ষিত মহিলা বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে। সংরক্ষিত আসনের প্যানেল বের করার সময় এই নিয়ম মেনে চলতে হয়।

যাইহোক,এবারের পিএসসি বিসিএস ফলাফল ও গতবছরের জুনিয়র সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পদের ফলাফলের মধ্যে কিছু মিল আছে। গতবারেও একজন মাত্র মুসলিম ওবিসি বি ক্যাটাগরিতে সফল হয়েছিল। অথচ মুসলিমদের একটা বিরাট অংশ ওবিসি বি-র অন্তর্ভুক্ত। গতবছর পিডব্লিউডি বিভাগে মাত্র একজন মুসলিম ওবিসি বি প্রার্থী সফল হয়েছে। ইরিগেশন এন্ড ওয়াটারওয়েজ ডিপার্টমেন্ট, মিউনিসিপাল এফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট, ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট ,পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভলপমেন্ট, ওয়াটার রিসোর্ট ইনভেস্টিগেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ার ডিপার্টমেন্ট এবং এফএএআরএফডি বিভাগে একজন মুসলিম ওবিসি বি প্রার্থীও সফল হননি!
অন্যদিকে গতবছর মিউনিসিপাল এফেয়ার্স বিভাগ ও ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্টে একজন মুসলিমও সাধারণ বিভাগে উত্তীর্ণ হয়নি!
বর্তমানে ৯৫% মুসলিম ওবিসি সংরক্ষনের আওতায় এসে পড়েছে। কিন্তু এসসি, এসটি ও ওবিসি মিলিয়ে কত শতাংশ হিন্দু সংরক্ষনের আওতায় এসেছে তা কিন্তু আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তফসিলী জাতি ৬০, তফসিলী উপজাতি ৪০, ওবিসি এ ৮ এবং ওবিসি বি ৫২ অর্থাত্‍ মোট ১৬০ টি জনগোষ্টি সংরক্ষনের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কত শতাংশ মুসলিম এসসি বা এসটিদের চেয়েও বঞ্চিত বা পিছিয়ে পড়া? সেই হিসাব কিন্তু সরকারের কাছে নেই বা সেই মতো কোনও সংরক্ষনের ব্যবস্থা নেই।
এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সংরক্ষনের ভিতরে থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে লড়ায়ে টিকতে পারছেতো? তথ্য কিন্তু অন্য কথা বলছে। শুধু বিসিএস পরীক্ষা নয়, অতীতের অনেক পরীক্ষায় সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ। আর এর ফলে সাধারণ মানের সংরক্ষিত প্রার্থীরা নির্দিষ্ট গন্ডির ভিতরে থেকে গেছে। তাই বিভিন্ন রিপোর্ট যখন সামনে আসে তখন দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায় আছে সেই আগের মতোই পিছনে। অথচ বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভালো উন্নতি করেছে সম্প্রদায়টি। একুশ শতকের ডিজিটাল ভারতে পাল্লা দিয়ে পড়াশোনা করছে। শিক্ষার জাতীয় গড় হারের থেকে মুসলিমরা কিন্তু বেশি পিছিয়ে নেই। তার পরেও দশকের পর দশক সেই দুই,আড়াই শতাংশের গল্পের মধ্যেই কি এই সমাজের চাকরির ইতিহাস লেখা থাকবে? প্রায় তিন কোটি জনগণ আবার কবে মূল স্রোতে ফিরবে? যে লক্ষ্যে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে তা কি পূর্ন হয়েছে? যদি সাধারণ কোটায় এতো কম সংখ্যক মুসলিম সুযোগ পায় তবে এই আধমরা সম্প্রদায়ের জন্য রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ মেনে কম পক্ষে কুড়ি শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হোক। কেননা, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রমান করে দিয়েছে, এই রাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে মুসলিমরা সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। তাই দেশ ও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে একটি পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীকে হাত ধরে তুলে মূল স্রোতে নিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কত্যব।”

রাজ্যের গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবীতে রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউতে বিশাল প্রতিবাদ সভায় ফারুক আহমেদ। রাজ্যের গ্রামীন সম্পদ কর্মীরা তাদের প্রতি বাংলা ও কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হলেন। রাজ্যের ৩৩,০০০ গ্রামীন সম্পদ কর্মী মাত্র দেড়শ টাকার মজুরিতে কাজ করেন। তাও আবার তারা বছরে কাজ পান মাত্র ৬০ দিন। রাজ্যের গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ দুপুর বেলায় ধর্মতলার রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউতে জমায়েত হয়ে তারা একটি বিশাল সমাবেশ করলেন। নব্বান্নে গিয়ে মাননীয়া মুখ্যামন্ত্রীকে একটি দাবী সম্বলিত স্মারকলিপিও জমা দিলেন। এই সমাবেশ থেকে ৩৩,০০০ হাজার গ্রামীন সম্পদ কর্মীরা আবেদন করলেন সরকারের কাছে তাদের বেতন বাড়ানোর এবং চাকরিজীবনে স্থায়ীকরণ করার জন্য। সরকার তাদের দাবী পূরণে কতটা এগিয়ে আসবে এখন সেটাই দেখার।
এই সমাবেশে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং “নবচেতনা”র আহ্বায়ক তথা “উদার আকাশ” পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ জরালো বক্তব্য রাখেন। বহু বিশিষ্ট মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন এই সমাবেশে। সকলকে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাজ্যের গ্রামীন সম্পদ কর্মী সংগঠনের সম্পাদক অমিত সরকার, সংগঠনের সভাপতি ইলিয়াস আলম।

ভারতের আসমের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তারা অবশ্য হিন্দু শরণার্থীদের বিতাড়নের কোনও প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পক্ষে সাফাই দিয়েছে।

সম্প্রতি সংগঠনটির রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এনআরসি ছাড়াও ‘ঘর ওয়াপসি’, ‘লাভ জিহাদ’ ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ইত্যাদি বিতর্কিত ইস্যুতে মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, রাজ্য সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, এভাবে তারা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি জম্মু-কাশ্মীরেও তারা পৌঁছে গেছে। রাজ্য সরকার আগুন নিয়ে খেলা করছে।

‘ঘর ওয়াপসি’ (বিভিন্ন কারণে যারা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা) বা ‘ঘরে ফেরানো কর্মসূচি’ রূপায়ণের জন্য দুর্গাবাহিনী ও বজরং দলের সদস্যদের নিয়ে একটি মঞ্চ গঠন করা হবে। এর পাশাপাশি কাজে লাগানো হবে মঠ-মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে।

তাদের অভিযোগ, এখানে হিন্দুদের দেবত্তর সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি জোর করে দখল করে নেয়া হচ্ছে এবং কম দামে কিনে নেয়ার মধ্য দিয়ে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ চলছে।

অন্যদিকে, তারা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ভালবাসার ছলে ধর্মান্তরকরণ) রুখে দিতে মানুষজনকে বোঝাতে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাবে।

এইসব বিভাজন করে ভারতের ও বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারবে না বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গে ওরা কখনও সফল হবে না, এসব প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক, নবচেতনার আহ্বায়ক ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের সহ অধিকর্তা ফারুক আহমেদ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার সংবসদ মাধ্যমকে বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ওরা একবিন্দুও সফল হতে পারবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য ছোটখাট দাঙ্গার মধ্য দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করার চক্রান্ত করেও ওরা চরমভাবেই বাংলায় ব্যর্থ হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি করে সম্প্রীতির বাংলায় কখনও সফল হবে না বিজেপি। বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। দেশের বৈধ নাগরিকদের অন্যায়ভাবে বিদেশি বানিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসী সোচ্চার হচ্ছেন, এটাই আশার আলো। আমরা আগে দেখেছি বিজেপি সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে বিভাজন করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছে। আসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে লাখ লাখ বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র কোন উদ্দেশ্যে তা আমরা বুঝতে পারছি। এভাবে আসম থেকে বাঙালি মুসলিম ও হিন্দুদের খেদিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না কেন্দ্রে ও অসম বিজেপি সরকার।

ফারুক আহমেদ আরও বললেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ভারতকে ওরা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানাতে পারবে না। ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। সংবিধানকে কলঙ্কিত করার উদ্যোগ সুস্থ নাগরিকরা মেনে নেবেন না। মিশ্র সংস্কৃতিই আমাদের অর্জিত বৈভব। মিশ্র সংস্কৃতির দেশ ভারত। ভারতীয় সংবিধানের অমর্যাদা প্রকৃত ভারতবাসীরা মেনে নেবে না। ভারতকে যারা অপবিত্র করছে তারা মানুষ নয়, মানুষ নামের অন্য কিছু। ভারত আমাদের মাতৃভূমি। যেভাবে ওরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে ভারত গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চলেছে। ভারতবাসী দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে অন্য দেশের থেকে।

ফারুক আহমেদ আরও বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে কোনোরকমভাবে ওরা দাঁত ফোটাতে না পেরে এখন একেকটা ইস্যু তোলার চেষ্টা করছে। এখানে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা সব ধর্ম, সব বর্ণের মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন। যেজন্য গোটা ভারতের বিরোধীশক্তি মমতা বন্দোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছেন। সেই ভয়ে বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গে আশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। মহান ভারতকে ওরা আর কত নীচে নামাবে! আশা করি ভারতবাসী আগামী লোকসভা নির্বাচনে যোগ্য জবাব দেবেন।

২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে দেশের সুনাগরিকরা বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করবেন বলেও মন্তব্য করেন ফারুক আহমেদ।

বাংলার প্রতি প্রান্তে “নবচেতনা” ফিরিয়ে আনতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সচেতন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর সঙ্গে নিতে হবে দলিত ও সংখ্যালঘুদেরকেও। কাউকে পিছনে রেখে আচ্ছে দিন আসে না এবং দেশও এগিয়ে যায় না। মানব কল্যাণে ফারুক আহমেদরা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছেন বলেই দেশে আজও সম্প্রীতির অটুট বন্ধন ঠিকে আছে।

ফারুক আহমেদ আরও বললেন, বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করতে পারবেন বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমাতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই দেশবাসীর কল্যাণে ২০১৯ সালেই আমাদের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমাতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হোক দেশের প্রধানমন্ত্রী।

রাজ্যের ৩৩,০০০ হাজার গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবীতে রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউতে প্রতিবাদসভায় হাজার হাজার মানুষের সমাগমে ফারুক আহমেদ জরালো বক্তব্য তুলে ধরলেন।

রাজ্যের ৩৩,০০০ হাজার গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবী জানিয়ে দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের সঙ্কট প্রতিকারে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠিও লিখেছেন ফারুক আহমেদ।

চিঠিটি হুবাহু তুলে ধরা হল নিম্নরূপ।

“স্বাধীন হল দেশ কত বছর পেরিয়ে গেল তবুও পিছিয়ে রাখা হল দলিত ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে মুসলিম সমাজকে। ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছর পরেও পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া ঘরের ছেলেমেয়েরা মূল স্রোতে উঠে আসতে পারেনি আজও। বহু সংগ্রাম করে কিছু সংখ্যক উচ্চশিক্ষা নিতে এগিয়ে আসছে এটাই এখন বড় আলোর দিশা। এ বিষয়ে কিছু মিশন স্কুলের অবদান উল্লেখযোগ্য। মুসলিমদের পরিচালিত ট্রাস্ট ও সোসাইটির নিজস্ব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার ফলে বহু ছাত্রছাত্রী আর্থিক অনটনে উচ্চশিক্ষা অর্জনে বহু বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গভীর। রাজ্য সরকার এ বাধা দূর করার জন্য কোনও সরকারি প্রকল্প এখনও গ্রহণ করেনি। পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্তনিগম থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে ঋণ দেওয়া হয়, তার বিনিময়ে সরকারি চাকুরিরত গ্রান্টার বাধ্যতামূলক করায় বিপদ বেড়েছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকুরিরত মুসলমাদের সংখ্যা খুবই নগন্য, কোথাও আবার শতকরা একজনও নেই। তাহলে সরকারি চাকুরিরত গ্রান্টার পাওয়া যাবে কোথায়? একদিকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলেও অর্থের অভাবে তা তারা নিতে পারছে না। অন্যদিকে চাকুরিরত মুসলমানের সংখ্যা জনসংখ্যার (৩০%) শতাংশের অনুপাতে খুবই কম। তাহলে এই বৈষম্য ঘুচবে কি ভাবে? মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দাবি, তারা মুসলমানদের উন্নয়ন করতে প্রবলভাবে আন্তরিক। সভা সমাবেশ ও সমিতিতে এই দাবি জোর কদমে বলে চলেছেন শাসক দলের নেতা-নেত্রী ও মন্ত্রীরা। এই মতো পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি— সরকারের পক্ষ থেকে এই সব দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ ফান্ডের ব্যবস্থা করুকক। অথবা পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্তনিগম থেকে গ্রান্টারমুক্ত লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিক সরকার উদ্যোগ নিয়ে। আমরা অনুদান চাইছি না উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারের কাছ থেকে পিছিয়েপড়াদের জন্য শুধু মাত্র লোন চাইছি। পিছিয়েপড়াদের তুলে আনার ক্ষেত্রে সরকারের এটা নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই তাদের কল্যাণে সরকারকেই এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের জন্য যদি প্রকৃত উন্নয়ন করতে চান তাহলে এই ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেন। এই উদ্যেগ নিলে তিনি সহজেই পিছিয়েপড়াদের মন জয়ও করতে পারবেন। এই পথেই একটা পিছিয়েপড়া সমাজ আলোর স্পর্শ পাবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। মুক্ত চেতনা ও নব চেতনার মধ্য দিয়ে সর্বোপরি সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রচিত হবে। মুসলিম ও সংখ্যালঘু সমাজ আলোর দিশারী হবে। এটা বড় প্রয়োজন এই মুহূর্তে। তাই মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই খোলা চিঠির সূচনা করলাম।

দেশে ও রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে আমরা বদ্ধপরিকর হয়েছি। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ঋণের দায়ে গত তিন বছরে ৩৮ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। দৈনিক ৩৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে আত্মহত্যার ঘটনা ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদি সরকার কৃষকদের কল্যাণে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যদিও লাভজনক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছে। কৃষকদের চেয়ে শিল্পপতিদের নিয়ে মোদি সরকার বেশি চিন্তিত।

গণতন্ত্রে সরকারের চাবি থাকে জনতার হাতে এবং তাদের সরকারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া উচিত বলে মনে করি। দেশের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তারা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। কৃষকরা জমিতে সেচের জন্য সস্তা মূল্যে বিদ্যুৎ ও জল পাচ্ছে না, খালে জলও সরবরাহ হচ্ছে না। সরকারের কাছে কৃষি কমিশন গঠন করে তাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কৃষকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২৩ মার্চ থেকে দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনও শুরু হয়েছিল।
দুর্নীতির সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্য দলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ (নিজেও ঘুষ খাব না, কাউকে খেতেও দেবো না) কিন্তু আমরা দেখছি দুর্নীতির ঘটনা একনাগাড়ে প্রকাশ্যে আসছে। এরফলে মোদীর কাজকর্মের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এখন মানুষের সচেতন হওয়ার সময়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন সরকারকে নির্বাচিত করা উচিত যারা সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে।
কেন্দ্রীয় সরকার জনলোকপাল বিল দুর্বল করেছে বলেও মনে করি।

কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে মনে হচ্ছে ‘কৃষকবিরোধী সরকার’ হয়ে উঠেছে। আশা রাখি গোটা দেশের সচেতন মানুষ এই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করবেন।
কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকবিরোধী, আমজনতাবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। আমরা দেখছি প্রত্যেকদিন ৩৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঋণের দায়ে গত তিন বছরে ৩৮ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে আত্মহত্যার ঘটনা ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সরকারকে তো কৃষকবিরোধী সরকার বলতেই হয়। এই সরকারের আমলে একেরপর এক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ভারতের কেন্দ্র সরকার জনবিরোধী সরকার হয়ে গেছে যেন।

এদিকে বাংলায় নতুন সূর্য ওঠার ডাক দিলেন দলিত-সংখ্যালঘু নেতারা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দলিত ইস্যু নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পদক্ষেপের ভূয়ষি প্রশংসা করলেন বাংলার সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের বহু মানুষ।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরো এক রিপোর্টে প্রকাশ, বিগত দশ বছরে দলিত নির্যাতনের ঘটনা ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি ১৫ মিনিটে ১টি করে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটানো হয়েছে দলিতদের বিরুদ্ধে। দেশে দলিতদের উপর নির্যাতনের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে দলিতদের মনে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, বঞ্চনা ও বৈষম্যের ঘটনাও চরমহারে বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতে। প্রতিদিন দলিতের ৬ জন নারী ধর্ষিতা হন। বিজেপি শাসিত রাজ্যেগুলিতে দলিত ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা অনেক বেশি। “লাভ জেহাদ”, “গো রক্ষা”-র নামে অসহায় সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। যা চোখে দেখা যায় না, এই সব দৃশ্য আদিভারতবাসীদের চোখে জল আনছে। এবং নতুন ভাবে জেগে ওঠান ডাক দিচ্ছেন।

এসসি-এসটি আইন পরিবর্তন ও দলিত-সংখ্যালঘু নিপীড়নের প্রতিকার করতে কলকাতার রাজপথে মহামিছিল ও প্রতিবাদসভার ডাক দিয়েছিল দলিত ও সংখ্যালঘুরা। গত ২৮ এপ্রিল বিভিন্ন দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সংগঠন নেতৃত্ব দিল এই মহামিছিল ও প্রতিবাদসভার।

সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পরামর্শ দিলেন দলিত ও সংখ্যালঘু নেতারা।
ভারতে আদিভারতীয়দের মধ্যে দলিত ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে মুসলমানরাই সর্বদিকে সর্বাধিকভাবে বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছেন। এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা অর্জন করতে তারা মহাজোট বাঁধছে। দলিত ও মুসলমানদের যৌথ্য প্রয়াস সফল হতে চলল বাংলায়। এবার একটু তুলে ধরছি মাদ্রাসা শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে কিছু প্রসঙ্গ।
রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার বেহাল দশা কাটাতে অভিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। মাদ্রাসায় পড়ে এখন‌ও পর্যন্ত যা দেখেছি তাতে দলিত ও সংখ্যালঘদের মধ্যে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাই অধিক। সে জন্য‌ই কি রাজ্য সরকার এতো অবহেলা করছে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি? শিক্ষক নিয়োগে এতো অনীহা কেন? জোরালো প্রশ্ন উঠছে চারিদিকে। রাজ্য সরকার অনুমোদিত ৬১৪ টি মাদ্রাসায় ৭০ শতাংশ শিক্ষক পদ এখনো শুন্য হয়েই আছে। মাদ্রাসা শিক্ষা আজ ভেঙে পড়েছে, সরকার তবুও কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন উঠছে প্রশ্ন। বিশ বাঁও জলে তলিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, কোর্টে কেস চলার অজুহাতে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকার চরম অবহেলা করছে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারের প্রতি, তার ফল ভুগতে হবে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে। রাজ্যে নামেই সাতজন মুসলিম মন্ত্রী আছেন কিন্তু মুসলিমদের কাজের বেলায় একজনও নেই বললেও চলে। রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে এই সরকার পুরোটাই ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের সময় রাজ্যে গণতন্ত্র প্রহসনের রূপ নিল।

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য আজ পর্যন্ত এই সরকার “ওয়াক্‌ফ উন্নয়ন করপোরেশন” তৈরি করল না। ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দিনের পর দিন বেহাত হয়ে যাচ্ছে। বেদখল সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বর্তমানে যে সব সম্পত্তি আছে তা রক্ষা করতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াক্‌ফ বোর্ডের কাজ দেখলে মনে হবে গভীর সঙ্কটে আছে। এই সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর একটাও হাই মাদ্রাসা নতুন করে অনুমোদন দেয়নি। সবই দশ হাজারের ভাওতা বললে ভুল হবে না। সংখ্যালঘু মুসলিম আধিকারিকদের পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনে নীতিনির্ধারণের কোনও জায়গায় রাখা হচ্ছে না। “সংবিধান বাঁচাও সমিতি”র ডাকে ২৮ এপ্রিল মহামিছিল ও সমাবেশে এসব প্রশ্নকে সামনে রেখে দলিত ও সংখ্যালঘুদের মহাজোট করে এর প্রতিকার করতে এগিয়ে আসার আহ্বান করেছিলাম। রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করার জন্য সংগঠের মাধ্যমে জায়গা তৈরি করার কথাও তুলে ধরেছিলাম। সংখ্যালঘু উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু ভাতা, ‘শ্রী’ যুক্ত প্রকল্প ছাড়া এই সরকার কিছুই করেনি। অথচ এই সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল তারা ক্ষমতায় এলে সাচার কমিটির সুপারিশ এই রাজ্যে রূপায়িত করতে বদ্ধপরিকর থাকবে। ক্ষমতায় এসে রাজেন্দ্র সাচারকে রাজ্যে আনা হয়েছিল কিন্তু তাঁর সুপারিশ মানা হয়নি। বাস্তবিক গুরুত্বপূর্ণ রাজেন্দ্র সাচারের সুপারিশকৃত পরামর্শ আজও প্রয়োগ করতে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল “সমসুযোগ কমিশন” গঠন করার নির্দেশ। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যাঙ্ক থেকে বেশি বেশি সংখ্যালঘুদের ঋণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন রাজেন্দ্র সাচার। রাজ্যস্তরে সংখ্যালঘুরা উপকৃত হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য রাজ্যস্তরে তথ্যপঞ্জী ব্যাঙ্ক গঠন করতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন। যাতে অন্যান্য অংশের মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে তুলনামূলক ভাবে বিচার করা যায়। রাজ্য সরকারের প্রশাসনে সংখ্যালঘু মুসলমিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি। সাংসদ প্রতিনিধি বিশেষ করে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে সংখ্যা বাড়লেও সংখ্যালঘু প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়েনি, তা উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকাতে ওবিসি ক্যাটাগরি “এ” এবং “বি” করে সংখ্যালঘু মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে এবং বিষয়টি গুলিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। ১২ টি এমন বিধানসভা কেন্দ্র আছে যেখানে সংখ্যালঘুরা ৫০ শতাংশের অধিক অথচ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সংরক্ষিত আসন করে দেওয়া হয়েছে। কোন যুক্তিতে? এ ব্যাপারে রাজ্যসরকার আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এসসি-এসটি-ওবিসি সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য এই সরকার অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে। একেই গরিব পিছিয়ে পড়া, তার উপর অনলাইন? এই সিদ্ধান্তের জন্য সবাইকে টাকা নিয়ে শহরে ছুটতে হচ্ছে অনলাইন ফর্ম ফিলাপ করতে। আবার সবাই সার্টিফিকেটও পাচ্ছে না, যার ফলে চাকরি, ভর্তি সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ওবিসি সংরক্ষণের নামে বঞ্চনা চলছেই। ওবিসি সার্টিফিকেট আছে এমন চাকরিপ্রার্থীর আবেদনকারীদের আর সাধারণ ক্যাটাগরিতে চাকরিই দেওয়া হচ্ছে না। এখন ওবিসি সার্টিফিকেট আছে তেমন চাকরি প্রার্থীদের মধ্যেই লড়াই করে দু’একটা কোথায়ও চাকরি হচ্ছে। এবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় সামান্য প্রাইমারি চাকরি পরীক্ষায় বহু যোগ্য সংখ্যালঘুদের সুপরিকল্পিত ছকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বহু টেট পাশরা আজও চাকরি পায়নি। ডি গ্রুপের চাকরি থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে সংখ্যালঘুদের। রাজ্যসরকারের চাকরিতে বিশেষ করে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ বিভিন্ন বিভাগে সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এই সব জায়গায় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি। জনসংখ্যার অনুপাতে বহু বেশি পরিমাণে মুসলিমরা শুধুমাত্র কারাগারে রয়েছে। কাউকে আবার বিনা দোষে মিথ্যা মামলায় জেলে ভরে রাখা হয়েছে। ভাবুন পরিবর্তনের জন্য আমরা অধিক সংখ্যায় সংখ্যালঘুরা এই সরকারকে একচেটিয়া ভোট দিয়েছিলাম। বাম সরকারের পতন সুনিশ্চিত করেছিলাম। বাস্তবিক আমাদের কল্যাণে এই সরকার কিছুই করছে না কিন্তু মুখে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী ৯৯ শতাংশ কাজ করে দিলাম। রাজ্যের যে-কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে চোখ রাখলে দেখত পাই শহীদের তালিকায় মুসলমান ও দলিতরাই আছেন বেশি। বাস্তবিক সব রাজনৈতিক দল সুপরিকল্পিতভাবে দলিত ও মুসলমানদের লড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলেন। ফলে মারে ও মরে এই উভয় সম্প্রদায়ের দলিত ও মুসলিম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও রাজ্য সরকারের ৮২ টির মতো স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারপার্সন বা কর্ণধার ও কমান্ডিং পদে কোনও দলিত ও মুসলমানদেরকে বসানো হয় নি। ব্যতিক্রম হয়েছিল পিএসসিতে তবে তাঁকে দিয়ে অন্যায় কাজ করিয়ে নিতে না পারায় তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ না হতেই তিনি নিজের সম্মান বাঁচাতে চেয়ারম্যান (শেখ নুরুল হক, আইএএস) পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। চাকরিরত অবস্থায় চাকরি ছেড়ে দিলেন। এটা অনেকেই জানেন। এখনও পর্যন্ত কোনও মুসলমান আধিকারিক আর পিএসসিতে সামান্য সদস্যও হতে পারিনি, সরকার সদস্য করেন নি বলেই হতে পারিনি। যা ভারতের অন্য রাজ্যে ভাবাই যায় না। এখনও পর্যন্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও মুসলিম পুলিশ আধিকারিককে ডিজি করা হয়নি। আমরা দেখেছি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে মুসলমান এবং দলিত নেতাদের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকাই থাকে না। ৬৪ সালের দাঙ্গার পর রাজ্যবাসী খুব একটা বড় ধরনের দাঙ্গার মুখোমুখি হয়নি। এখন আমাদের দেখতে হচ্ছে হালিশহর, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, আসানসোল প্রভৃতি এলাকার দাঙ্গার ভয়াবহতাকে। ধর্মের নামে অস্ত্রের ঝনঝনানি আজ বাড়বাড়ন্ত, যেন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য এ রাজ্য যে সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা ছিল তাও আজ সঙ্কটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রোধে ও দাঙ্গা-পীড়িতদের ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের স্বার্থে কংগ্রেসের ইউপিএ সরকার যে আইন তৈরি করেছিল তা আজও বিজেপি সরকার আইনে পরিণত করেনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে আইন তৈরি করছে না কেন? উন্নয়নের নামে সব জায়গায় দলিত ও মুসলমানদের জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে কিন্তু উন্নয়নের অংশে তাদেরকে ব্রাত্য করে রাখা হচ্ছে। রাজ্যে মুসলমান ও দলিতদের জমি নিয়ে বসবাসের জন্য যত উপনগরী তৈরি হয়েছে সেখানে মুসলমানদের ঠাঁই হয়নি। অল্প জায়গায় ঘেটোবাসী হয়ে বসবাস করাটাই তাদের এখন ভবিতব্য হয়ে উঠেছে।

তাই কোনোরূপ অজুহাত রাজ্যের মানুষ আর শুনতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয় সহ সমস্ত চাকরির পরীক্ষাগুলিতে সঠিকভাবে ১০০ শতাংশ রোস্টার মানা হোক। এই চরম বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এসসি-এসটি-ওবিসি-“এ” এবং ওবিসি-“বি” চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে ১০০ শতাংশ রোস্টার মেনে চাকরি দিতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। নইলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। রাজ্যে যোগ্য সংখ্যালঘু ও দলিত আধিকারিকদের গ্যারেজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে, এই বৈষম্য দূর করতে হবে অবিলম্বে। ২৩টি জেলায় চোখ রাখলে কোনও ডিএম ও এসপি বা কমান্ডিং পোস্টে যোগ্য ও সৎ দলিত ও মুসলিম আধিকারিক কাউকে দেখছি না। কেন? ব্যতিক্রম একজন আয়শা রানি ঝাড়গ্রামের ডিএম পদে আসীন হলেন সম্প্রতি। চাকরিরত যোগ্য সংখ্যালঘু ও দলিতদেরকে কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে? এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতেই হবে। তার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথে নামতে হবে, আন্দোলন করতে হবে প্রাপ্য অধিকার অর্জন করতে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাকেন্দ্র থেকে ইসলামি থিয়োলজী বিভাগ তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে হবে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করতে হবে। সংখ্যালঘুদের কল্যাণে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিন মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলতে এবং সর্ব বিষয়ে অর্নাস ও এমএ, এমএসসি এবং পিএইচডি চালু করতে। সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক ড. মহম্মদ আলি। ড. আলি আশা রাখি মানব কল্যাণে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাক্তন উপাচার্য ড. আবু তালেব খানের উত্তসুরি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের টনক নড়াতে দলিত ও সংখ্যালঘুরা বদ্ধপরিকর হচ্ছেন এটাই এখন আশার আলো। এরপরও যদি সরকারের সুমতি না ফেরে তাহলে বাংলায় নতুন সূর্য উঠবে কি ভাবে তা ভাবতে হবে। নতুনভাবে দলিত ও সংখ্যালঘু জোটবদ্ধ হয়ে বাংলার কল্যাণে সবার জন্য গণতন্ত্র ফেরাতে তৈরি হবেন। বিপন্ন বাংলা ও দেশের মানুষের বাঁচার মুক্তি হল সুস্থ গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখা। তাই সংবিধান বাঁচাতে আমরা বদ্ধপরিকর হয়েছি মানুষের কল্যাণে। ধর্মীয় বিভাজনের ফাঁদে আমরা যাব না এই অগ্নিশপথ নিয়েই দলিত ও মুসলিম সহ সকল শ্রেণি মানুষের কল্যাণ আওয়াজ তুলব সুস্থ সমাজ গড়তে।

মন্ত্রীত্বে এবং বিচার ব্যবস্থায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে বঞ্চিত দলিত ও মুসলিমরা কেন? সংখ্যানুপাতে এসসি, এসটি আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় জনসংখ্যার হিসেবে ৬০ শতাংশেরও বেশি আছে পশ্চিমবঙ্গে তবু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এদের কারো হাতে নেই কেন? এবং ওবিসি আছে ৩৪ শতাংশ। এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে দলিত ও সংখ্যলঘুদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নেবেন আমারা আশা রাখি। আর আশা রাখি সেপ্টেম্বর মাশেই মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি শিলান্যস করবেন। আর্টস, সায়েন্স, কমার্স-এর সব বিষয়, ম্যানেজমেন্ট, ল ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সব বিভাগ চালু করতে এবং পঠনপাঠন শুরু করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বতন্ত্র পদক্ষেপ নেবেন।”

নদীয়াতে অনুষ্ঠিত হল নবচেতনার সফল জেলা মিটিং। আপনারা সকলেই অবগত আছেন ‘নবচেতনা’ একটি অরাজনৈতিক ও সমাজকল্যাণকারী সংস্থা।

গত রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, দুপুর আড়াইটের সময় নদীয়া জেলার কার্যকরী কমিটির এক বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কৃষ্ণনগরের চৌগাছায় হানিমুন রিসোর্ট পার্ক-এর সভাকক্ষে।

নদীয়া জেলার ‘নবচেতনা’র সদস্যদের উৎসাহ ছিল চোখে দেখার মতো।

“নবচেতনা” নদীয়া জেলা সভাপতি ড. আবুল হোসেন বিশ্বাস ও “নবচেতনা”র সেন্ট্রাল কমিটির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ, নদীয়া জেলার ডা: সারিকুল ইসলাম, চৌধুরী হামিম রৌশন, সাজ্জাদ আলী, বাইতুল্লা মন্ডল, লিয়াকত সাহেব, আজিম মল্লিক, সফিকুল ইসলাম, আব্দুস সামি, জাফরুল্লা মোল্লা প্রমুখ সহ কয়েকজন সদস্য সুদৃঢ় বক্তব্য তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


  • Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    error: Content is protected !!