প্রেম করে বিয়ে করে হত্যা তরুনীকে

 

কমল দত্ত, নদিয়া: একই পাড়ায় দুটি মিলন। প্রথম পর্যায়ে শুরু হয় প্রেমের মাধ্যমে।তারপর আসা যাওয়া বেড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে।হটাৎ একদিন পালিয়ে বিয়ে করে নেয় দুজনে।কিন্তু বিয়ের পর তাদের একসাথে রাখতে দেয়নি কেউ।ঘটনা নদিয়ার হরিনঘাটা থানার মাহাতোপাড়ায়।গত ২০১৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর একই গ্রামের কাকলী সাহার সাথে রানা সাহা পালিয়ে বিয়ে করে।পরে মেয়ের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ছেলেটিকে অর্থাৎ রানা দাসের জ্যাঠার বাড়ি মছলন্দপুর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।তখনি মেয়েটির পরিবারের তরফে জানানো হয় কাকলীর ১৮ বছর বয়স হয় নি।যাই হোক এরপর হোমে না দিয়ে তারা মেয়েটিকে বাড়িতে রাখে।তারপর বয়স হয়ে গেলে কাকলী তার শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর সংসারে ফিরে যায়। কয়েকবছর পর তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়।মেয়ের পরিবারের অভিযোগ রানার এক মহিলার সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।কাকলী জানতে পেরে তা প্রতিবাদ করতে গেলে তার উপর চলে শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন।

অবশ্য এবিষয়ে বহুবার মেয়েটির পরিবারের তরফে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেও কাজের কাজ কিছুই হয় নি। শেষ রক্ষা হল না। শেষ মেষ কাকলীকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিল শ্বশুর বাড়ির লোকেরা।নির্যাতনের সীমা লঙ্ঘন করে কাকলী কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।মেয়েটির পরিবার সুত্রে জানাগেছে চলতি মাসের ৬ই জুন কাকলীকে বিষ খাওয়া অবস্থায় নদিয়ার কল্যানী জহরলাল মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে আসলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পর মৃত্যু হয় তার।এরপর কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃতের পরিবার।অসহায় তার শিশু সন্তান মাতৃহারা হয়ে পরে।পুলিশ অবশ্য কাকলীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। যদিও বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।কাকলীর স্বামী এখন জেল হেপাজতে আছেন বলে জানা গেছে।রহস্যের বিষয় মৃত কাকলীর পরিবার হরিনঘাটা থানার কাছে তাদের মেয়ের মৃত্যুর ময়না তদন্তের রিপোর্ট দেখতে চান কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশ তাদের ওই রিপোর্ট দেন নি বলে অভিযোগ। পথ চেয়ে বসে মৃত ওই গৃহবধুর পরিবার।পারিবারিক সমস্যা নাকি অন্য কিছু লুকিয়ে আছে এই মৃত্যুর পিছনে তা সঠিক তদন্তের দাবী তুলছেন মৃতের দাদা শুভংকর সরকার ও তার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *