পাকিস্তানের রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশিকা ভারতের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ফের ভারত আক্রমণের ছক কষছে পাকিস্তান। কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এবার পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

পাকিস্তান কেবল সন্ত্রাসবাদকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ওদের কাছে মানুষের প্রাণের কোনো দাম নেই। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন বিদেশ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শুধু সন্ত্রাস ছড়ানো নয়, সন্ত্রাসে মদতও দেয় পাকিস্তান। সত্যকে অস্বীকার করে লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল তারা। এবার ২৬-১১ এর মূল চক্রী হাফিজ সঈদকে মদত দিচ্ছে পাকিস্তান। নিজেই আলোচনার পরিবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।’

এমনকি পাকিস্তান যে কেবলমাত্র রাজনীতি চায়, ভারতের সঙ্গে আলোচনা নয় তা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সুষমা স্বরাজের পর পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন ভারতীয় মিশনের প্রথম সেক্রেটারী ইনাম গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। পাকিস্তানের মদতেই ভারতীয় জওয়ানদের হত্যা করা হচ্ছে। হাফিজ সঈদ এর মত জঙ্গি কিভাবে পাকিস্তানের নির্বাচনে অংশ নেয়।’

এমনকি নতুন পাকিস্তান যে পুরনো ছাঁচ এই ঢালাই করা তা স্পষ্ট করেছেন গম্ভীর। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান বাহিনী হামলা চালাতে পারে বলে শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সাম্বা জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তে নরেন্দ্র সিং এর হত্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু ঘটেছে। আমি এখন এটি প্রকাশ করব না। কিছু বড় কিছু হয়েছে। আমাকে বিশ্বাস করুন ২-৩ দিন আগে সত্যিই বড় কিছু ঘটেছে। এবং ভবিষ্যতে কি হবে তাও আপনারা দেখতে পাবেন।’

বিএসএফকে আক্রমণ করার সূত্র গুলো চিহ্নিত করেছে পাকিস্তান। ১৮ সেপ্টেম্বর রামগড় সেক্টরে আইবি ব্যারাকে বন্য ঘাস কেটে ফেলার সময় এক বিএসএফ জওয়ানকে হত্যা করা হয়। ভারতের তরফে পাকিস্তানিদের গুলি চালানো হয়। মৃত বিএসএফ জওয়ানের লাশটি পরবর্তী সময় পাকিস্তানের সীমান্তে বুকে তিনটি বুলেটের ক্ষত সমেত পাওয়া যায়।

এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও এল ই সি জুড়ে সর্তকতা জারি করা হয়। বিএসএফ জওয়ানকে হত্যার প্রতিবাদে সেনাবাহিনী প্রধান পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার সংকল্প করেন। একটি সমাবেশে বিএসএফ প্রধান বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের বিএসএফ জওয়ানদের কাছে প্রথম বুলেটটি পুড়িয়ে দিতে বলিনি। কারণ পাকিস্তান আমাদের প্রতিবেশী দেশ। যাইহোক যদি সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি শুরু হয় আমি জওয়ানদেরকে কঠোরভাবে আঘাত করতে বলি এবং গুলি চালানোর সংখ্যা গণনা করতে বলিনি’।

২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী দিনটি স্মরণে রেখেছিলেন। তার শক্তিশালী ক্ষমতা দেখিয়ে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে যেতে দিয়েছিলেন। এবং আমাদের সৈন্যরা তাদের এলাকায় প্রবেশ করেছিল এবং শত্রুকে দমন করেছিল।’

প্রতি মুহূর্তের সব রকম খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইট করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *