কর্ণাটকে সরকার গড়তে চেয়ে বৈঠক বিজেপির

 

বাংলা hunt ডেস্ক :কর্ণাটকের ভোটযুদ্ধের ফলাফলে কংগ্রেস ও বিজেপি ছাড়াও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে জেডিএস। বুথফেরত সমীক্ষা সত্যি হলে কুমারস্বামীর হাতেই থাকবে মসনদের চাবি।কর্ণাটক ভোটে ২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ২২২টি আসনে। তাই সরকার গড়তে দরকার ১১২টি আসন। বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, কর্ণাটকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না কোনও দলই। ফলে জোট রাজনীতির ওস্তাদরা ইতিমধ্যে মুগুর ভাঁজতে শুরু করেছেন।

১৯৮৫ সালের পর থেকে কর্ণাটকে কোনও দলই কর্ণাটকে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। সেদিক থেকে কংগ্রেসের ওপর চাপ বেশি।
উলটো দিকে কেন্দ্রে ও কর্ণাটকে একই দলের সরকার থাকেনি গত কয়েক দশক। ২০১৩ সালে কংগ্রেস কর্ণাটকে জিতলেও ২০১৪ সালে কেন্দ্রে তাদের পরাজয় হয়। ভোটপ্রচারে জেডিএসকে বিজেপির বি টিম বলে বার বার কটাক্ষ করেছে কংগ্রে। ভোটের ফলপ্রকাশের পর সরকার গড়তে তাদেরই দ্বারস্থ হতে হবে কংগ্রেসকে। সেই বুঝে ভোট মিটতেই দর বাড়ানো শুরু করেছে জেডিএস।

সেক্ষেত্রে সরকার গড়তে সিদ্দারামাইয়ার বদলে অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারে কংগ্রেস। জেডিএস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন সিদ্দারামাইয়া। ফলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে সমস্যা রয়েছে এইচডি দেবেগৌড়ার। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দরকারে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন সিদ্দারামাইয়াও। উলটো দিকে ফল প্রকাশের আগেই নিজের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য স্টেডিয়ামে বায়না দিয়ে রেখেছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। ১৭ তারিখ শপথগ্রহণ বলে আগেই ঘোষণা করে রেখেছেন অতি প্রত্যয়ী এই বিজেপি নেতা। নিজেদের সরকার গঠনের দাবিতে অনড় জেডিএসও। তাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী হবেন এইচডি কুমারস্বামীই।

এবারের ভোটে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর ২ আসন বাদামি ও চামুণ্ডেশ্বরীর দিকে নজর থাকবে সবার। তাছাড়া নজর থাকবে ইয়েদুরাপ্পার আসন শিকারিপুরার দিকেও।  কর্ণাটকের নির্বাচনী প্রচারে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ফলে হারজিত দুদলের কাছে কার্যত মর্যাদার লড়াই বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এর পাশাপাশি কর্ণাটকের ত্রিমুখী লড়াইতে বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, ত্রিশঙ্কু হতে চলেছে কর্ণাটক বিধানসভা।

এমনকী বুথফেরত সমীক্ষা এও বলেছে, কর্ণাটকে ১০০-র বেশি আসন পাবে না কেউই। কংগ্রেস ও বিজেপি ছাড়াও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে এইচডি দেবেগৌড়ার দল জেডি(এস)-ও। ২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভার ২টি আসনে ভোটগ্রহণ পিছিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ভোট হয়েছে ২২২টি আসনে। সেক্ষেত্রে সরকার গড়তে ১১২টি আসন পেতেই হবে কোনও দলকে। বুথফেরত সমীক্ষা বলছে ত্রিশঙ্কু হতে চলেছে কর্ণাটক বিধানসভা।

এমনকী বুথফেরত সমীক্ষা এও বলছে, কর্ণাটকে ১০০-র বেশি আসন পাবে না কেউই। গননার শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে কড়া নিরাপত্তায় কর্ণাটকে শুরু হয় ভোটগণনা। সবার প্রথমে পোস্টাল ব্যালটের গণনা শুরু হয়েছে।  প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে কংগ্রেস। ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫ টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস। বিজেপি-জেডিএসের হাড্ডাহাড্ডা লড়াই। তারপর এগিয়ে যায় ইয়েদুরাপ্পা , পিছিয়ে পরে সিদ্দারামাইয়া।

প্রাথমিক গণনায় ৭৭টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস, বিজেপি এগিয়ে ৩১টি আসনে, ১০টি আসনে এগিয়ে যায় জেডিএস। অতঃপর ফলের আভাস পাওয়া যায়, ১১৩ টি আসনের মধ্যে ৫০টিতে এগিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস এগিয়ে ৪৮টি আসনে, জেডিএস ১৪। বাদামিতে পিছিয়ে পরে সীতারামাইয়া।
আবার, হিসেব উলটে কর্ণাটকে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার পথে বিজেপি, ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে কংগ্রেস।

২১১ আসনের মধ্যে এখনও ১০২ টি আসনে এগিয়ে বিজেপি, ৬৫টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস আর জেডিএস এগিয়ে ৪১টি আসনে। অবশেষে গতকাল ফলাফল ঘোষনার পর আজ বৈঠকে বসেছে বিজেপি। তারা এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে কর্নাটকে সরকার গড়ার জন্য। অন্যদিকে আজ বৈঠকে বসছে কংগ্রেস ও জিডিএস ও। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রীর পদ কে দখল করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *