শিক্ষক- কর্মচারীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার

প্রসেনজিৎ দাস, আগরতলা, ত্রিপুরা 

 

শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার৷ সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে এইভাবেই রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেতা গোপাল রায়৷ তাঁর কথায়, সপ্তম বেতন কমিশনের মোড়কে সান্তনা পুরস্কার পেয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা৷ কারণ, আবারও কর্মচারীদের বঞ্চনা জিইয়ে রাখা হয়েছে৷ তাতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনার্সরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন৷ তাঁর কটাক্ষ, জুমলা বেতন কমিশন দিয়েছে জোট সরকার৷

বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল রায় সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে জোট সরকারকে নিশানা করেন৷ তাঁর কথায়, সাত মাসের জোট সরকার কর্মচারীদের সাথে নাটক করেছে৷ কর্মচারীদের বঞ্চনা জিইয়ে রেখে জুমলা বেতন কমিশনের ঘোষণা দিয়েছে৷ তাতে, শিক্ষক-কর্মচারীরা সান্তনা পুরস্কার পেয়েছেন৷ তাঁর দাবি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বামফ্রন্ট সরকার ২২৫ বেতনক্রম ঘোষণা দিয়েছিল৷ তাতে, কর্মচারীদের ১৯৬৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল৷ কিন্তু, এখন ভার্মা কমিটির সুপারিশে সপ্তম বেতন কমিশনে বেতন বৃদ্ধি হবে ১৪২ শতাংশ৷ তাঁর সাফ কথা, রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন নয়, ২২৫ থেকে ২৫৭ বেতনক্রম করেছে৷ এবিষয়ে তাঁর আরও যুক্তি, সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হলে তা কার্যকর হতো ১ জানুয়ারী ২০১৬ সাল থেকে৷ কিন্তু, রাজ্য সরকার নতুন বেতনক্রম কার্যকর করবে ১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে৷

তাঁর কথায়, কেন্দ্রের দেওয়া সপ্তম বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন বেতনক্রম ২৫৭ এবং সর্বোচ্চ বেতনক্রম ২৮১৷ অথচ রাজ্য সরকারের ঘোষিত সপ্তম বেতন কমিশনে ২৮১ বেতনক্রমের কোন উল্লেখ নেই৷ তাঁর আরও দাবি, কেন্দ্রে ঘর ভাড়া ভাতা সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ৷ কিন্তু, রাজ্যে এমন কোন শ্রেণিবিন্যাস হয়নি৷ তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, রাজ্য সরকার কর্মচারীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে৷
রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে এদিন তিনি পেনশনার্সরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন৷ তাঁর কথায়, ১ জানুয়ারী ২০১৬ সাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পেনশনার্স গ্র্যাচুইটিতে লাভবান হতেন৷ কারণ, কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশন অনুসারে গ্র্যাচুইটি ২০ লক্ষ টাকা স্থির করা আছে৷ সেই হিসেবে রাজ্যে পেনশনার্সরাও একইভাবে উপকৃত হতেন৷ তাছাড়া লিভ সেলারিতেও লাভবান হতেন৷ কিন্তু ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ায় পেনশনার্সদের বিরাট ক্ষতি হয়েছে৷
গোপাল রায়ের কথায়, রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৩৮০ কোটি টাকা খরচ হবে৷ কারণ, প্রতি মাসে ৭৬ কোটি টাকা করে পাঁচ মাসে কোষাগার থেকে এই অর্থ খরচ করবে রাজ্য সরকার৷ তাতে, বকেয়া ৯ শতাংশ মাহার্ঘ্য ভাতা অনায়াসে দিতে পারে রাজ্য সরকার৷ তাঁর বক্তব্য, উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুসারে সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য বাজেটে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে৷ তাই, বেতন খাতে ৩৮০ কোটি টাকা খরচ হলে বাকি টাকায় বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা মেটানো খুবই সহজ৷ তাঁর দাবি, অবিলম্বে কর্মচারীদের ৯ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা মিটিয়ে দেওয়া হোক৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


  • Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    error: