Special Story বাংলায় বিজেপি – সিপিএম, রাজনিতির নয় সমীকরণ – কান্ডারী কি মুকুল রায়!

উদয়ন বিশ্বাস , দার্জিলিং : আগামী ১৮তারিখ সারা ভারতবর্ষের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন, সারা দেশের সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গেও সবথেকে আলোচিত কেন্দ্র দার্জিলিংয়ের ভোট। গত ২০০৯ও ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়ী হয়েছিল। এবার পাহাড়ের চিত্রটা একটু ভিন্ন কারণ ২০০৯ ও ১৪ সালে পাহাড়ের জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন ছিল বিজেপির সাথে। তার ফলে পাহাড়ের তিনটে বিধানসভা কার্শিয়াং কালিম্পং ও দার্জিলিং এর ফলাফল বিজেপি কে জয়ী হতে সাহায্য করেছে। এবার পাহাড়ের চিত্র একটু ভিন্ন কারণ, জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত এবং পাহাড় ছাড়া।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একটি বড় অংশ বিনয় তামাং এর নেতৃত্বে তারা এবার তৃণমূলের সাথে তার ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি এবার তারা দার্জিলিং আসন থেকে নির্বাচিত হবেন। তাদের আরও একটি অগ্রাধিকার হল। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী এবার ভূমিপুত্র গত ২০১৬ নির্বাচনে দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিধায়ক অমর সিং রাই এবার তৃণমূলের প্রার্থী দার্জিলিং কেন্দ্রে।

বিপক্ষে বিজেপির প্রার্থী রাজু সিং বিস্তা জন্মসূত্রে নেপালি হলেও মূলত সে মনিপুরের অধিবাসী, যদিও দার্জিলিং কেন্দ্রে বিগত নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থী বিজেপির পক্ষ থেকে জয়ী হয়েছিল ।এবার বিমল পন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একটা অংশ এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার চিরশত্রু যাদের জন্য সুভাষ ঘিসিং কে পাহাড় ছাড়তে হয়েছিল। সেই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল পন্থীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে বিজেপির প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য পাহাড়ে প্রচারে নেমেছে জিএনএলএফ সহ আরো ছয়টি দল। দেখার বিষয় হলো যে পাহাড়ের কমিউনিস্ট পার্টির একটি অংশ যাদের লাল ঝান্ডা গতকাল জনসভায় বিজেপির পতাকার সঙ্গে একসাথে উড়তে দেখা গেল।

 

মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে, শুধু বাংলায় প্রথম নয় সারা দেশে প্রথম কাস্তে হাতুড়ি লাল পতাকা বিজেপির পদ্মফুল পতাকার সঙ্গে একসাথে মিটিং। এর মাঠের বিভিন্ন কোনায় হাওয়ায় উড়ছে এ এক বিরল দৃশ্য, যদিও বিজেপির দাবি এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে মূলত বলা যায় তাদের দাবি বিগত ভোট কে ছাপিয়ে আরো বেশি ভোটে জয়ী হবে তারা।আজকের সভা থেকে বাংলায় বিজেপির সহ-পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি দূর্নীতির নাম, তার ট্রেনিং হয়েছিল কংগ্রেসের ঘরে যে কংগ্রেস Aথেকে Z পর্যন্ত দূর্নীতির দায়ে ডুবে রয়েছে। এ থেকে জেট পর্যন্ত এক একটি অক্ষরের সঙ্গে এক একটি দূর্নীতির নাম তুলে ধরেন।আজকের সভা থেকে বিজেপির নির্বাচনী কমিটির প্রধান মুকুল রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন পাহাড়ে কোন উন্নয়ন হয়নি, পাহাড়ের সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেইমানি করেছে, অন্যায় করেছে, অসাংবিধানিক কাজ করেছে, শুধু এইটুকু বলে থেমে থাকেননি, বলেন এবার লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ এই সরকারকে যোগ্য জবাব দেবে।

এখন দেখার যুযুধান দু’পক্ষের দাবিকে মানুষ কতটা প্রাধান্য দেয়, তা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ২৩ শে জুন পর্যন্ত সেদিন বোঝা যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিপুত্র প্রার্থী করাটা দার্জিলিং কেন্দ্রে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বেশি পায় নাকি বিজেপি বহিরাগত প্রার্থী পাহাড়ের ছোট ছোট দলগুলোকে নিয়ে তারা তাদের জয়ের ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

সূত্রের খবর বিজেপি ও সিপিএমের পাহাড়ে জোটের নয়া রনকৌশল তৈরি করছে মুকুল রায়৷ এই বিশয় মুকুল রায় কিছু বলতে চাইনি।

প্রতি মুহূর্তের সব রকম খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইট করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *